বাড়ি ও অফিসের অতন্দ্র প্রহরী IP HD ক্যামেরা Jovision JVS-H510 রিভিউ

হাইলাইটস
রেটিং
কিনবেন কোত্থেকে
সুবিধা: PTZ (Point-tilt-zoom) HD ক্যামেরা। ভিডিও কোয়ালিটি ভালো। নিশ্ছিদ্র অন্ধকারেও সর্বোচ্চ ৩০ ফুট দূরত্বের বস্তুসমূহের স্পষ্ট ভিডিও ধারণ ও স্ট্রিম করতে সক্ষম।

অসুবিধা: ভিডিও মাঝে মধ্যে দেরি করে স্ট্রিমিং হয়। Talk ফাঙ্কশন চালু করলে ক্যামেরা থেকে নয়েস ফিড এবং ইকো আসে যার ফলে কথা বুঝতে সমস্যা হয়।
4/5N/A

jovision-jvs-Jovision JVS-H510 একটি পিটিজি (Point-tilt-zoom) ক্ষমতা সম্পন্ন এক মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। এটি ওয়াই-ফাই এর মাধ্যমে আপনার মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ, বা ডেস্কটপের সাথে সংযুক্ত হয়ে ভিডিও স্ট্রিমিং করতে সক্ষম। ক্যামেরাটি ৬৪ মেগাবাইট মাইক্রো এসডি কার্ড সাপোর্ট করে। অর্থাৎ ক্যামেরাটি ভিডিও রেকর্ড করতে পারে। আপনি যেখানেই থাকুন না কেন মোবাইল ফোনে বিনামূল্য এ্যাপ CloudSee Int’l ব্যবহার করে ক্যামেরার ধারণকৃত ভিডিও চিত্র লাইভ দেখতে পারবেন। এ্যাপটি এ্যাপলের এ্যাপ স্টোর কিংবা এন্ড্রয়েড প্লে স্টোর থেকে সহজেই ডাউনলোড করে নেয়া যায়। ডেস্কটপ বা লেপটপ কম্পিউটারে ব্যবহারের জন্য এ্যাপটির পিসি ক্লায়েন্ট ভার্সন ডাউনলোড করতে হবে।

 

 

বাক্সে যা যা আছে

বক্সের মধ্যে পাবেন Jovision JVS-H510 IP ক্যামেরা, পাওয়ার এ্যাডাপ্টার, কুইক স্টার্ট গাইড, ইথারনেট ক্যাবল, ওয়াল মাউন্ট, দুটি স্ক্রু এবং প্লাস্টিক এঙ্কর।

ডিজাইন

jvs-h510cদেখতে একটা খেলনা রোবটের মতো হলেও Jovision JVS-H510 IP ক্যামেরার ওজন নেহাত কম নয় এবং হাতে নিলে বোঝা যায় এটা বেশ মজবুত এবং টেকসই। ওয়াই-ফাই রিসেপশনের জন্য এর দুটো এন্টিনা আছে। ক্যামেরা সেন্সরের চারপাশ ঘিরে রয়েছে দশটি ইনফ্রারেড লাইট যাতে করে ক্যামেরাটি সম্পূর্ণ অন্ধকারেও ভিডিও স্ট্রিম ও রেকর্ড করতে পারে। এতে একটি সবুজ রঙ্গের পাওয়ার লেড লাইটও রয়েছে। উচ্চতায় ৬ ইঞ্চি, চওড়ায় ৪ ইঞ্চি এবং প্রস্থে প্রায় ৫ ইঞ্চি আয়তনের এই ক্যামেরাটি সহজেই বহনযোগ্য। এর পাওয়ার কর্ডটি দৈর্ঘ্যে কেবল তিন ফিট, ফলত: পাওয়ার আউটলেটের খুব কাছাকাছি কোথাও এটাকে রাখতে হবে, অথবা পাওয়ার এক্সটেনশন কর্ড ব্যবহার করতে হবে।

ক্যামেরার পোর্টগুলো এর পেছনের দিকে থাকায় বেশ সুবিধা হয়েছে। পোর্টগুলোর মধ্যে রেয়েছে এসডি কার্ড স্লট, ইথারনেট পোর্ট, পাওয়ার ইন পোর্ট। ক্যামেরার সামনের দিকে রয়েছে মাইক্রোফোন। ক্যামেরার সাথে আপনার মোবাইল ডিভাইসের সংযোগ সাধনের পর ক্যামেরার প্রান্তে থাকা কারোর সাথে কথা বলার জন্যই এই মাইক্রোফোন। ক্যামেরার রিসেট বাটনটি আছে ক্যামেরার নিচে। ওখানে ওয়াল মাউন্ট করার জন্য স্ক্রু লাগানোর ব্যবস্থাও আছে।

ক্যামেরার ডিজাইনটি সুন্দর কিন্তু এর আকার, আয়তন এবং ওজনের বিষয়গুলো চিন্তা করলে ওয়াল মাউন্ট করার চাইতে একে কোন ডেস্কে বা এ ধরনের কোন সার্ফেসে রাখাই উপযুক্ত বলে মনে হয়েছে।

ফিচার

jvs-h510dJovision JVS-H510 IP ক্যামেরাটিতে রয়েছে ১ মেগাপিক্সেল ৩.৬ মিলিমিটার CMOS সেন্সর। ক্যামেরাটিতে ১০টি ইনফ্রারেড লাইট রয়েছে যাতে নিশ্ছিদ্র অন্ধকারেও ক্যামেরাটি ভিডিও স্ট্রিম ও রেকর্ড করতে পারে। তবে অন্ধকারে ক্যামেরাটি কেবল ২৪ থেকে ৩০ ফিট পর্যন্ত দূরুত্বের মধ্যেই স্পষ্ট ভিডিও স্ট্রিমিং বা রেকর্ডিং  করতে সক্ষম। ক্যামেরাটিতে মোশন সেন্সরও রয়েছে। এই ক্যামেরা দিয়ে সর্বোচ্চ ১২৮০*৭২০ রেজুলুশনের ভিডিও স্ট্রিমিং এবং ধারণ করা সম্ভব। ক্যামেরাটি ওয়াই-ফাই ৮০২.১১ বি/জি/এন প্রযুক্তি সমর্থন করে এবং ৬৪ জিবি মেমোরি সাপোর্ট করে।

Jovision JVS-H510 IP ক্যামেরাটির আইওএস (এ্যাপল), এন্ড্রয়েড এবং পিসি প্লাটফর্মের সাথে কম্পাটিবল এ্যাপস রয়েছে। এই এ্যাপ ব্যবহারের জন্য আপনাকে আলাদাভাবে কোন টাকা দিতে হবে না। এ্যাপটির নাম CloudSee Int’l। JVS-H510 IP ক্যামেরাটি একসাথে মোট ৬টি ক্লায়েন্টের সাথে একই সময়ে সংযুক্ত হতে পারে।

 

 

CloudSee Int’l এ্যাপ
jovision-jvs-h510
CloudSee Int’l এ্যাপ ব্যবহারে সহজেই অভ্যস্ত হয়ে ওঠা যায়। এর একটি Audio বাটন আছে যেটা চালু করে আপনি ক্যামেরার প্রান্তের শব্দগুলো শুনতে পারবেন; এ্যাপটির Snapshot বাটনটির সাহায্যে আপনি স্থির ছবি পারবেন; Record বাটনের মাধ্যমে ভিডিও রেকর্ড করতে পারবেন। Stream বাটনটির মাধ্যমে তিনটি ভিডিও কোয়ালিটির (HD, SD, এবং LD) যেকোন একটি বাছাই করতে পারবেন। এর Talk বাটনের মাধ্যমে ক্যামেরার প্রান্তে উপস্থিত কারো সাথে কথাও বলতে পারবেন। এ্যাপটির PTZ (Point-tilt-zoom) বাটনটির সাহায্যে যেকোন দূরবর্তী স্থান থেকে ক্যামেরাটিকে নির্দিষ্ট দিকে তাক করানো, জুম করানো ইত্যাদি করতে পারবেন। Playback ফাংশনের মাধ্যমে ধারণকৃত ভিডিও চালু করে দেখতে পারবেন। Settings ফাংশনের মাধ্যমে মোশন ডিটেকশন এলার্ম, সিস্টেম কনফিগারেশন, সময় ও তারিখ ইত্যাদি সেট করা যায়। মোশন সেন্সর এলার্ম সেট করা হলে ক্যামেরার প্রান্তে কোন নড়াচড়া হলেই ক্যামেরাটিতে এলার্ম বেজে উঠবে। আপনি চাইলে কোন ধরনের নড়াচড়া বা স্থানান্তর হলেই কেবল ভিডিও রেকর্ডিং হবে এরকম ভাবে ক্যামেরাটিকে কনফিগার করতে পারবেন। বস্তুত, ক্যামেরা এবং এর এ্যাপটিতে একজন সাধারণ ব্যবহারকারীর যেসব ফাংশনের প্রয়োজন হতে পারে তার সবগুলোই অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। তবে এলার্ম ফাংশনটিতে আরও কিছু সুবিধা যোগ করার সুযোগ ছিলো, যা গুণাগণ বিশ্লেষণ অংশে ব্যাখা করা হয়েছে।

সেটআপ

jvs-h510ক্যামেরার সেটআপ কতোটা সহজ বা কঠিন সে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য আমরা আমাদের ল্যাবে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র সোহেলকে আমন্ত্রণ জানাই। সে ক্যামেরাটি চার মিনিটের মধ্যে কনফিগার করে চালু করতে সক্ষম হয়। অর্থাৎ এই ক্যামেরা সেটআপ করার জন্য কোন প্রফেশনাল লোকের প্রয়োজন হবে না। সে প্রথমে CloudSee Int’l এ্যাপটি ডাউনলোড করে সাইন আপ ও সাইন ইন করে এবং তারপর ক্যামেরার এডাপ্টারকে পাওয়ার আউটলেটে লাগায়। সাথে সাথেই ক্যামেরায় সবুজ আলোর একটি পাওয়ার লেড জ্বলে ওঠে। ক্যামেরাটি ডানে, বামে উপরে, নিচে ঘুরে ইনিশিয়ালাইজ হতে শুরু করে। এক্ষেত্রে ক্যামেরাটির সময় লাগে প্রায় ১ মিনিট। এরপর এ্যাপ-এর Add New Device বাটনে ক্লিক করা হয়। এ্যাপটি অপশন হিসেবে ‘ Add by Soundwave’ অপসনটি ব্যবহার করতে বলে। এই বাটনে ক্লিক করার পর ৫ সেকেন্ডের জন্য ক্যামেরার নিচের প্রান্তে অবস্থিত রিসেট বাটনে চাপ দিয়ে রাখতে বলা হয় এবং ক্যামেরর স্পিকারে  Waiting for configuration শোনা গেলে রিসেট বাটনটি ছেড়ে দিয়ে Next চাপতে বলা হয়। Next চাপার পরে ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড দিয়ে আবার Next চাপতে বলা হয়। এ্যাপটি সাউন্ড ওয়েভ সেন্ড করার একটি বাটন উপস্থাপন করে। এক্ষেত্রে, মোবাইল ফোনের ভলিউম সর্বোচ্চ করে ক্যামেরার মাইক্রোফেনের কাছে নিয়ে সেন্ড বাটনে চাপ দিতেই মোবাইল থেকে একটি সাউন্ডওয়েভ ক্যামেরার মাইক্রোফোনে পৌছায় এবং ক্যামেরা থেকে  Successful configuration কথাটি ভেসে আসে। অর্থাৎ ক্যামেরাটি আমাদের নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়। আবারও Next  বাটনে চাপ দেয়া হয় এবং এ্যাপটি সংযুক্ত আইপি ডিভাইস খুঁজতে শুরু করে। স্ক্যানিং শেষ হতেই Jovision JVS-H510 IP ক্যামেরার আইডি দেখা যায়, সেখানে ক্লিক করার পর ক্যামেরাটি ভিডিও স্ট্রিমিং শুরু করে। এ্যাপ ক্লায়েন্ট আপনার পিসি বা ল্যাপটপ কম্পিউটারের জন্য Jovision ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারেন। ক্যামেরার সেটআপ এবং পারফরমেন্সের ভিডিও ডেমনস্ট্রেশন দেখতে  এই ইউটিউব লিংকটিতে যান।

গুণগত মান এবং কার্যদক্ষতা

jvs-h510মেগাপিক্সেল ক্যামেরা হওয়ায় ক্যামেরাটি বেশ ভালো ভিডিও কোয়ালিটি স্ট্রিম করতে সক্ষম হয়। এমনকি নিশ্ছিদ্র অন্ধকারেও সাদা-কালো ভিডিওতে আমরা সবকিছু স্পষ্টভাবে দেখতে সক্ষম হই। ভিডিওটা মোটেও ঝাপসা ছিল না। মোশন ডিটেকশন এলার্মও সুন্দর কাজ করেছে, কিন্তু এলার্মের শব্দ কেবল ক্যামেরাটি থেকেই হয়। মোবাইল ফোনে এলার্মের শব্দ পেতে Audio ফাংশনটি চালু রাখতে হবে, কিন্তু সবসময় ক্যামেরার প্রান্ত থেকে শব্দ আসাটা উপযুক্ত কোন সমাধান নয়। অন্যদিকে এ্যাপটিতে এলার্মের সাথে ইমেইল বা ম্যাসেজ নোটিফিকেশনের ব্যবস্থা থাকলে ভালো হতো; অন্যদিকে ক্যামেরা থেকে যে এলার্মটি বাজে সেটা তেমন জোরালোও নয়। আরেকটি সমস্যা ছিল ক্যামেরার Talk ফাংশনে। এই ফাংশনটি চালু করলে ক্যামেরা থেকে জোরালো নয়েজ ফীড আসে যার ফলে উভয় প্রান্তেই একে অন্যের কথা পরিস্কারভাবে শুনতে বেশ বেগ পেতে হয়।

এছাড়াও এ্যাপের বাটনগুলো হঠাৎ দুই একবার অক্রিয় হয়ে ওঠে। তবে এ্যাপ থেকে ক্যামেরাকে রিস্টার্ট করে এই সমস্যা সমাধান করা যায়। দুই এক সময় ক্যামেরার ভিডিও একটু দেরী করে স্ট্রিমিং হচ্ছিল, তবে এর দুটো কারণ হতে পারে: প্রথমত আমাদের ওয়াই-ফাই সংযোগের সমস্যা এবং দ্বিতীয়ত CloudSee -এর সার্ভারে প্রক্রিয়াগত বিলম্ব হওয়া। তবে ক্যামেরার ওয়াই-ফাই রিসেপশন সন্তোষজনক ছিলো।

উপসংহার

ক্যামেরার গুণগত মান এবং এর কার্যক্ষমতা আমাদেরকে সন্তুষ্ট করেছে। এই ক্যামেরার উপর নির্ভর করা যায়। ক্যামেরাটা হ্যাং হয় না বা নিজে থেকে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় না। এ্যাপের ফাংশনগুলো হঠাৎ এক দুবার অক্রিয় হয়ে  গেলেও এ্যাপটি কখনও ক্র্যাশ করে না বা হ্যাং হয় না। ক্যামেরার আকার, আয়তন, ও ওজন ক্যামেরাটিকে কোন ডেস্ক বা এরকম সারফেসে স্থাপনের জন্যই বেশি উপযোগী করে তোলে। ওয়ালে মাউন্ট করার জন্য এর আকার আয়তন যথেষ্ট উপযোগী নয়। খোলা আকাশের নিচে ব্যবহারের জন্যও এটা উপযোগী নয়। এটা বাজারে ৩০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমরা এই পণ্যটিকে ৪ স্টার দিচ্ছি।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার: www.affordableproductreview.com ছবিগুলো ব্যবহারের অনুমুতি দেয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ।

Leave a comment