MICROMAX CANVAS KNIGHT এর রিভিউ

হাইলাইটস
রেটিং
কিনবেন কোত্থেকে
সুবিধা: সুন্দর, স্লিম ও কম্প্যাক্ট ডিজাইন, মেটাল ফ্রেম, মিডিয়াটেক-এম ৬৫৯২টি অক্টাকোর ১.৭ গিগাহার্টজ করটেক্স- এ৭ প্রসেসর, ১৬ মেগাপিকজেল প্রাইমারী এবং ৮ মেগাপিক্সেল সেকেন্ডারী ক্যামেরা। ৪৪১ঢ়ঢ়র পিক্সেল ডেনসিটি সমৃদ্ধ ফুল এইচডি আইপিএস ডিসপ্লে। অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রোয়েড কিটক্যাট ৪.৪.২ যা ললিপপ-এ আপগ্রেড করা যাবে।


অসুবিধা: প্রাইমারি ক্যামেরার পারফরমেন্স আরও ভালো হতে পারতো। ব্যাটারি ব্যাকআপ কম। এক্সটারনাল মেমোরি স্লট নেই।
4/5N/A

Micromax Kanvas Knightমাইক্রোম্যাক্স ক্যানভাস নাইট-এর ডিজাইন বেশ কম্পাক্ট এবং পরিচ্ছন্ন। দেখতে বেশ সুন্দর এই ফোনটি। মেটাল নির্মিত বডির কারণে ধরতেও বেশ ভালো লাগে। এর ৫ ইঞ্চি আইপিএস ডিসপ্লেটির নেটিভ রেজুলেশন ১৯২০x১০৮০ এবং এর পিকজেল ডেনসিটি ৪৪১ppi। ডিসপ্লেটির অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে প্রথম জেনারেশনের Corning Gorilla Glass, যদিও এরকম একটি ফোনে তৃতীয় কিংবা নূণ্যতম দ্বিতীয় জেনারেশন গোরিলা গ্লাসই প্রত্যাশিত ছিল। ফোনটি বাজারের অধিকাংশ স্মার্টফোনের থেকে স্লিম। এর পুরুত্ব মাত্র ০.৩৫ ইঞ্চি এবং ওজন ১৫৮ গ্রাম। মাইক্রোম্যাক্স এই ফোনে দুইটি সিম ব্যবহারের সুযোগ রেখেছে।

ক্যানভাস নাইটের ডানের প্যানেলে রয়েছে সিম ট্রে, পাওয়ার বাটন এবং এর নিচেই রয়েছে ভলিউম বাটন। বামপাশের প্যানেলে রয়েছে অপর সিম ট্রেট্রি। এর উপরের প্যানেলে রয়েছে ৩.৫ মি.মি অডিও পোর্ট এবং নিচের প্যানেলে রয়েছে মাইক্রো ইউএসবি ২.০ পোর্ট যার পাশেই রয়েছে স্পিকার ও মাইক্রোফোন। ফোনটির স্ক্রীনের নিচের দিকে মাঝ বরাবর রয়েছে এর হোম বাটন যার বামেই রয়েছে টাস্ক ম্যানেজার এবং ডানে রয়েছে ব্যাক বাটন। উপরে ডানে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেল সেকেন্ডারি ক্যামেরা এবং এর পাশেই রয়েছে প্রক্সিমিটি সেন্সর এবং বাম দিকে রয়েছে নোটিফিকেশন এলইডি। নোটিফিকেশন এলইডি একটি উপযোগী ফিচার হলেও সমসাময়িক স্মার্টফোনগুলোতে এটা সাধারণত দেখা যায় না; মাইক্রোম্যাক্স ক্যানভাস নাইটে এই এলইডি ইন্ডিকেটরটি একটি উপযোগী ফিচার বলে মনে হয়েছে আমাদের কাছে। ফোনটির পেছনের প্যানেলে রয়েছে ১৬ মেগাপিক্সেল প্রাইমারি ক্যামেরা এবং তার ঠিক বাম পাশেই এলইডি ফ্লাশলাইট।

kanvask3

পারফরমেন্স

মাইক্রোম্যাক্স ক্যানভাস নাইটে সংযোজন করা হয়েছে মিডিয়াটেক এমটি৬৫৯২টি চিপসেটের অক্টাকোর ১.৭ গিগাহার্টজ কর্টেক্স এ-৭ প্রসেসর। মিডিয়াটেক এর এই প্রসেসরটি গ্রাফিক্স-ইন্টেন্সিভ এ্যাপস, গেমিং, মাল্টিটাস্কিং ইত্যাদি কাজের জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী। প্রসেসরটি আটটি কোর সমৃদ্ধ এবং 28nm HPM প্রযুক্তিতে নির্মিত। প্রসেসরটি তাপমাত্রা ও শক্তির ব্যয় নির্ণয় করে সবসময় সর্বোচ্চ কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করে। প্রসেসরের ক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে মাইক্রোমেক্স ফোনটিতে সংযোজন করেছে ২ গিগাবাইট ডিডিআর৩ (DDR3) র‌্যাম।
ক্যানভাস নাইটে ব্যবহার করা হয়েছে MALI-450MP যা MALI-এর সবচেয়ে আপগ্রেডেড জিপিইউ। বিভিন্ন হেভী-গ্রাফিক্স গেমস যেমন Asphalt 7, ম্যাডেন মোবাইল ইত্যাদি কোন ল্যাগ ছাড়াই খেলতে পেরেছি আমরা। AnTuTu এবং Quadrant বেঞ্চমার্কে Canvas Knight স্কোর করেছে যথাক্রমে ৩০,২২৩ এবং ১৬,০৬১। GFXbench টেস্টে ক্যানভাস নাইটের স্কোর ৯.৪ ফ্রেম/সেকেন্ড এবং 3D Mark-এ ৪১৭১ যা হতাশাব্যঞ্জক।

ফোনটির অপারেটিং সিষ্টেম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে কিটক্যাট ৪.৪.২ । এন্ড্রয়েড কিটক্যাট অপারেটিং সিস্টেম এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এর র‌্যাম-এর চাহিদা কম। এন্ড্রয়েড কিটক্যাট চলতে কেবল ৫১২ এমবি র‌্যামই যথেষ্ট। ক্যানভাস নাইটে ২ গিগাবাইট র‌্যাম থাকায় যে কোন ধরনের হাই পারফরমেন্স অ্যাপস খুব সহজে কোন ল্যাগ ছাড়াই আমরা চালাতে পেরেছি।

তবে ফুল এইচডি নেটিভ রেজুলুশান (১০৮০p) থাকায় যেকোন ভিডিও বা মুভি দেখার ক্ষেত্রে আমাদের হতাশ হতে হয়নি। অপরদিকে ডিসপ্লের কালার, ব্রাইটনেস ও কন্ট্রাস্ট ছিল আশানুরূপ। যদিও এর স্ক্রিন খুবই রিফ্লেকটিভ কিন্তু ভালো কন্ট্রাস্ট-এর জন্য ঘরের বাইরেও রোদের মধ্যে স্ক্রীনে কিছু দেখতে বা পড়তে সমস্যা হয় না। kanvask1Canvas Knight-এর প্রাইমারী ক্যামেরা ১৬ মেগাপিক্সেল (অটোফোকাস)। ক্যামেরাটি ইলেকট্রনিক ইমেজ স্টেবিলাইজেশন (EIS) প্রযুক্তি এবং M8 Largan লেন্স সমৃদ্ধ। দিনের বেলায় এবং উজ্জ্বল আলোতে ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন আশানুরূপ কাজ করলেও কম আলো বা রাতের বেলায় হাত কাঁপলে ছবি ঘোলা ওঠে। তবে দিনের বেলায় এই ক্যামেরায় তোলা ছবির মান আমাদের আশানুরূপ বলেই মনে হয়েছে। তবে এর ফুল এইচডি ভিডিও কোয়ালিটি আমাদের মুগ্ধ করেছে। ক্যামেরাটি ফুলএইচডি ভিডিও ৩০এফপিএস-এ রেকর্ড করতে পারে। ভিডিও ক্লারিটি ছিলো চমৎকার এবং কালার স্যাচুরেশনের মাত্রা তেমন ছিল না। ভয়েস কমান্ড যেমন ‘Cheese’ বা ‘Capture’ ব্যবহার করে কোন স্পর্শ ছাড়াই ছবি তোলা যায় এই ফোন দিয়ে।
ক্যানভাস নাইটে এক্সটারনাল মেমোরি কার্ডের স্লট রাখা হয়নি অতএব ডেটা ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই এবং ঝক্কিকর ইউএসবি ডেটা কেবলই একমাত্র ভরসা।

kanvask

Canvas Knight-এ 2350mAh ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। ষ্ট্যান্ডবাই অবস্থায় এই ব্যাটারি ১৭৫ ঘণ্টা ব্যাকআপ দেবে এবং টকটাইম এর ক্ষেত্রে ৭.৫ ঘণ্টা ব্যাকআপ দেবে বলে ঘোষণা করা হলেও ব্যবহারিক ক্ষেত্রে আমরা ৬ ঘন্টা ২৩ মিনিট কন্টিনিউয়াস টকটাইম পাই। এছাড়া ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে গেমিং ও এ্যাপস ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৫ ঘন্টা ১১ মিনিট ব্যাকআপ পেয়েছি। তবে Wi-Fi চালু অবস্থায় ফোনটি সাধারণ কাজে ব্যবহার করলে ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত চলে। হেভী সেটিংস-এ ব্যবহার করা হলে, যেমন স্ক্রিন ব্রাইটনেস হাই করে 3G সবসময় চালু রেখে ১ ঘণ্টা টকটাইমের পর আমরা মাত্র ২.২৫ ঘন্টা ম্যাডেন মোবাইল খেলার পরই ব্যাটারি লো সিগনাল পেতে থাকি। কিছু সেটিং পরিবর্তন করে ব্যাটারি লাইফ বাড়ানোর সুযোগ যদিও থাকছে তবুও মোবাইল গেমিং-এর ভক্তদের দিনে কয়েকবার চার্জে দেয়ার ঝামেলা ভোগ করতে হবে।

সিদ্ধান্ত

মাইক্রোম্যাক্স ক্যানভাস নাইট দেখতে সুন্দর। এর ডিসপ্লেটি ফুল এইচডি রেজুলুশান সাপোর্ট করে; ডিসপ্লের পিকজেল ডেনসিটি, কালার আউটপুটও ভালো। এর সেকেন্ডারী কামেরায় ভালো সেলফি ওঠে। প্রাইমারী ক্যামেরায় দিনের বেলায় ভালো ছবি উঠলেও কম আলোতে ছবিতে নয়েজ আসে এবং হাতের কম্পনে ছবি ঘোলা ওঠে। তবে ফুল এইচডি ভিডিও রেকর্ডিং-এর মান আশানুরূপ। মাঝারি বাজেটে ভাল প্রসেসর ও মোটামুটি ভালো গ্রাফিক্স ইউনিট সমৃদ্ধ এন্ড্রয়েড ফোন ক্রয়ে আগ্রহীদের নিরাশ করবে না Micromax Canvas Knight সেটটি।
kanvask2

স্পেসিফিকেশন

প্রোডাক্ট এর নাম: Micromax Canvas Knight
ডাইমেনশন: ১৪৫*১৭২*৯ মি.মি
ওজন: ১৫৮ গ্রাম
ডিসপ্লে: ৫.০ ইঞ্চি আইপিএস এলসিডি ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রীন, ১৬ মিলিয়ন কালার, ১৯২০*১০৮০ পিক্সেল, ৪৪১ppi
মেমোরি: ৩২ গিগাবাইট (ইন্টারনাল), ২ গিগাবাইট র‌্যাম, এক্সটারনাল মেমরী স্লট নেই
ক্যামেরা: ১৬ মেগাপিক্সেল প্র্রাাইমারি ক্যামেরা, অটোফোকাস, এলইডি ফ্ল্যাশ, ৮ মেগালিক্সেল সেকেন্ডারী ক্যামেরা।
অপারেটিং সিষ্টেম: এন্ড্রয়েড কিটক্যাট ৪.৪.২
প্রসেসর: মিডিয়াটেক-এম৬৫৯২টি (অক্টাকোর ১.৭ গিগাহার্টজ করটেক্স- এ৭)
জি পি ইউ: মালি-৪৫০এম পি ৪
ব্যাটারী: লিথিয়াম আয়ন ২৩৫০ সঅয

Leave a comment