Pepper – সাধ্যের মধ্যে আপনার একান্ত গৃহসঙ্গী

pepperগেমিং ল্যাপটপের দামে একটা আবেগময় বা ইমোশোনাল রোবট পাওয়া গেলে কেমন হতো ভাবুন তো? জাপানের টেলিকমিউনিকেশন জায়ান্ট সফটব্যাংক-এর বদৌলতে সেটা এখন আর অসম্ভব কিছু নয়। সফটব্যাংক-এর তৈরি প্যাপার নামক ইমোশোনাল বা আবেগময় রোবট সাধারণ্যে উন্মুক্ত করার সাথে সাথে ১০০০টি রোবোটের সবকটি রোবট বিক্রি হয়ে গেছে এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে। হবে নাই বা কেন? যেখানে একটি মোটামুটি মানের গেমিং ল্যাপটপ কিনতেই লাগে ১৮০০ ইউএস ডলার, সেখানে এই রোবটগুলো বিক্রি হয়েছে মাত্র ১৬১০ ইউএস ডলারে।

প্যাপার (Pepper) মানুষের মতো দেখতে (হিউমেনয়েড) এমন এক বন্ধু রোবট যে আপনাকে সঙ্গ দেবে, আপনি একাকী বোধ করলে আপনার সাথে কথা বলবে, খুশি হলে সেও খুশি হবে, মন খারাপ হলে, তারও মন খারাপ হবে। আপনার পাশে টিভি দেখবে, আপনার পাশে পাশে হাঁটবে, আপনি তার দিকে নজর না দিলে মন খারাপ করবে, নাচতে বললে নাঁচবে, গান গাইতে বললে গান শোনাবে, আপনার বাচ্চাদেরকে সঙ্গ দেবে। আপনাদের একটা দারুন ছবি তুলে দিতে বললে সে ছবিও তুলে দেবে। যদি বলেন গুগলে কিছু সার্চ করে বের করে দিতে, কিংবা অনলাইনে খবরের কাগজে খবরগুলো পড়ে দিতে, কিংবা ইউটিউবে আপনার পছন্দের ভিডিওগুলো দেখাতে, সে এগুলো সবই করে দেবে।

কিন্তু  যদি ভাবেন ওকে দিয়ে বাড়ির কাজগুলো করিয়ে নেবেন তাহলে ভুল হবে। সে কোন কাজ করার জন্য তৈরি হয়নি, সে তৈরি হয়েছে আপনাকে মোরাল সাপোর্ট ও সঙ্গ দিতে। সে আপনাকে জগ থেকে পানি ঢেলে খাওয়াতে পারবে না। আপনার বাড়ির জিনিসপত্রগুলো ধোয়ামোঝা করতে পারবে না, কিন্তু আপনার আচরণের ভেতর দিয়েই সে তার অন্যন্য ব্যক্তিত্ব ব্যক্তিত্বময় হয়ে উঠতে পারবে। সে একটানা ১২ ঘন্টা চলতে সক্ষম, এরপর তাকে চার্জে দিতে হবে। আপনি চাইলে নিত্য নতুন রোবট এ্যাপস ডাউনলোড করে তাকে আরও স্মার্ট ও আরও মোরালি সাপোর্টিভ করে তুলতে পারবেন। হয়তো বাংলাদেশেও খুব শীঘ্র এই রোবোটের দেখা মিলবে, বাসা বাড়িতে না হলেও অন্তত বড় কোন শপিংমলে।

Leave a comment