Samsung WB250F এর রিভিউ

হাইলাইটস
রেটিং
কিনবেন কোত্থেকে
সুবিধা
সাশ্রয়ী দামের স্মার্ট ক্যামেরা। ১৮x জুম। ৩ ইঞ্চি টাচস্ক্রীণ ডিসপ্লে। কম আলোতে ভাল কোয়ালিটির ছবি তুলতে সক্ষম। Wi-Fi কানেক্টিভিটি। ১০৮০p ভিডিও শুট করা যায়। ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন তুলনামূলকভাবে ভালো।

অসুবিধা:
বেশী ISO-তে তোলা ছবিগুলো ডিটেইলস ও কালার ডেপ্থ কিছুটা হারিয়ে ফেলে। ফুল জুম-এ এইম করা মাঝেমাঝেই কষ্টকর হয়ে ওঠে এবং ছবিতে নয়েজ যোগ হয়।
4.5/5N/A
wb250f5Samsung WB250F একটি ১৪.২ মেগাপিক্সেল বিশিষ্ট স্মার্ট ক্যামেরা। এতে ব্যবহৃত হয়েছে ১/২.৩৩ ইঞ্চি BSI (Backside illuminated) CMOS সেন্সর এবং ১৮x অপটিকাল জুম। এই স্মার্ট ক্যামেরাটি দিয়ে শুধু ছবি তোলাই নয় বরং ফুল এইচডি ভিডিও রেকর্ডিং, Wi-Fi ব্যবহার করে স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ারিং, মোবাইল ফোনে ছবি বা ভিডিও ফুটেজ ট্রান্সফার করা ইত্যাদি সহজেই করা যায়।

ডিজাইন ও ফিচার

Samsung WB250F স্মার্ট ক্যামেরাটি লাইটওয়েট। ডিজাইনের দিক থেকে এটি কম্প্যাক্ট, স্লীম (১.৩ ইঞ্চি), এবং স্টাইলিস। এর ডিসপ্লেটি টাচস্ক্রীণ। ক্যামেরাটির বডি প্লাস্টিক নির্মিত হলেও এর বিল্ড কোয়ালিটি খুব একটা মন্দ নয়।

ক্যামেরাটির উপরের প্যানেলে রয়েছে এর Wi-Fi বাটন। এই বাটনে প্রেস করলেই ক্যামেরাটির Wi-Fi চালু হয়ে যায়। এর পাশেই রয়েছে এর পাওয়ার বাটন। পাওয়ার বাটনের পাশে রয়েছে ক্যামেরাটির পপ-আপ ফ্ল্যাশ কম্পার্টমেন্ট। ফ্ল্যাশ বাটনে চাপ দিলেই ক্যামেরাটির ফ্ল্যাশ কম্পার্টমেন্ট থেকে বের হয়ে আসে। এর পাশেই রয়েছে ক্যামেরাটির জুম বাটন, ফ্ল্যাশ অন/অফ বাটন এবং এর মোড ডায়াল।

wb250f1ক্যামেরার একটি উল্লেখযোগ্য ফিচার হলো স্মার্ট মোড। স্মার্ট মোডের মাধ্যমে ক্যামেরাটি নিজে নিজেই এর সেটিংস পারিপার্শ্বিক লাইটিং এবং পরিবেশের উপর ভিত্তি করে ঠিক করে নিতে সক্ষম। ক্যামেরাটির ব্যাক প্যানেলে রয়েছে এর ৩ ইঞ্চি HVGA টিএফটি ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রীন। এই স্ক্রীনে ব্যবহার করা হয়েছে হাইব্রিড টাচ ইউজার ইন্টারফেস যার ফলে ছবি তোলা থেকে শুরু করে শেয়ার করা ইত্যাদি কাজগুলো আরও সহজ ও ব্যবহারকারী বান্ধব হয়ে উঠেছে।

অন্যান্য ক্যামেরার মতো এই ক্যামেরাটিতেও রয়েছে ডেডিকেটেড মুভি বাটন। এই বাটনে প্রেস করার সাথে সাথেই ভিডিও রেকর্ডিং শুরু হয়ে যায়। এর নিচে রয়েছে মেনু, ব্যাক, প্লে­ব্যাক এবং ডিলিট বাটন। এখানে একটি ৪-ওয়ে ডায়াল রয়েছে যার মাঝেই রয়েছে OK বাটন। এই ৪-ওয়ে ডায়ালে রয়েছে ম্যাক্রো, ফ্ল্যাশ, ডিসপ্লে এবং বার্ষ্ট মোড অপশন। অধিকাংশ রেগুলার পয়েন্ট এন্ড শুট ক্যামেরার আদলেই ডিজাইন করা হয়েছে এই স্মার্ট ক্যামেরাটি। অতএব যারা পয়েন্ট এ- শুট বা কম্প্যাক্ট ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যবহার করে অভ্যস্ত তাদের জন্য এই ক্যামেরা ব্যবহার করতে কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না।

ক্যামেরাটির নিচের প্যানেলে রয়েছে এর ব্যাটারী এবং মেমোরী কার্ড স্লট। ক্যামেরাটির ইন্টারনাল মেমোরী মাত্র ৯.৫ মেগাবাইট হলেও ক্যামেরাটিতে ব্যবহার করা যাবে (৩২ জিবি) এসডি, এসডিএইচসি(SDHC) এবং এসডিক্সসি(SDXC) মেমোরী কার্ড। এর বামপাশেই রয়েছে চার্জিং স্লট। আলাদা কোন ব্যাটারি চার্জার ক্যামেরার সাথে না আসলেও চাইলে কেউ চার্জার কিনে নিতে পারবেন।

পারফরমেন্স

wb250fSamsung WB250F-এর যে ফিচারটি আমাদের সবচে ভালো লেগেছে সেটা হলো এর ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন এবং কম আলোতে ভালো ছবি তোলার ক্ষমতা। কালার স্যাচুরেশন কম এবং এক্সপোজার যথাযথ বলেই মনে হয়েছে; ছবিও যথেষ্ট পরিস্কার ও নয়েজমুক্ত বলে মনে হয়ছে আমাদের কাছে।

দিনের বেলা পর্যাপ্ত আলোতে এই ক্যামেরা দিয়ে যে ছবিগুলো আমরা তুলেছি সেগুলোর ডিটেইলস প্রশংসনীয় ছিল, এবং কালার ডেপথও ছিলো আশানুরূপ। যদিও ক্যামেরাটির ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন আমাদের যথেষ্ট ইম্প্রেস করেছে তবুও ক্ষীণ আলোতে ট্রাইপড ব্যবহার করা লাগতেই পারে। ক্যামেরাটি দিয়ে আমরা ফুল এইচডি ভিডিও শুট করেছি। পর্যাপ্ত আলোতে ভিডিওর মান যদিও যথেষ্ট ভালো ছিল, কিন্তু কম আলোতে ক্যামেরাটির ভিডিও পারফরমেন্স তেমন ভাল পাই নি। সেটিংস টুইকিং করে কম আলোতে ভিডিও করা গেলেও তাতে প্রচুর নয়েজ দেখা যায়।

তবে এর ১৮x অপটিক্যাল জুম-এর পারফরমেন্স আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। যদিও ফুল জুম-এ তোলা ছবির কোয়ালিটি কিছুটা হলেও ক্ষুণœ হয় এবং টার্গেটকে এইম করা একটু কষ্টকর হয়ে ওঠে তবে ১৪x পর্যন্ত জুম করে তোলা ছবিগুলো যথেষ্ট ভালো এসেছে বলেই মনে হয়েছে আমাদের কাছে।

ক্যামেরাটির বিভিন্ন মোডগুলোর কোনটি কি কাজ করে সেটা জানতে ম্যানুয়াল না ঘাটলেও চলবে কেননা স্যামসাং ব্যবহারকারীর সুবিধার জন্য মোড সংক্রান্ত তথ্যগুলো WB250F ক্যামেরাটির স্ক্রীণেই দিয়ে দিয়েছে। মোড সিলেক্ট করলে ক্যামেরার স্ক্রীনেই এই মোডগুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন।

wb250f6এই ক্যামেরার যে মোডটি আমাদের বিশেষভাবে আনন্দিত করেছে সেটা হলো Best Face মোড। এই মোডটি সিলেক্ট করলে ক্যামেরাটিতে একই সাথে অনেকগুলো ছবি তোলা হয়ে যাবে যার ফলে ব্যবহারকারী পছন্দ মত ছবি সিলেক্ট করে নিতে পারবেন; তবে এই মোড-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো গ্রুপ ছবিতে কারও ছবি আশানুরূপ না উঠে থাকলে ঐ অনেকগুলো ছবি থেকে নিজের বা বন্ধুদের সবচেয়ে ভাল ফেইস যে ছবিটিতে এসেছে সেখান থেকে শুধুমাত্র ফেইসটি ব্যবহার করার সুবিধা। তাই এক ছবিতে একজনকে আর আরেক ছবিতে আরেকজনকে ভাল লাগলেও অথবা ছবি তোলার সময় কারও চোখ বন্ধ হয়ে গেলে সেটাকে সংশোধন করে নেয়া যাবে। যদিও এই ফিচারটি এখনও যথেষ্ট ম্যাচিউর নয়, তবুও আমরা আশাবাদী স্যামসাং এই ফিচারটিকে ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও ব্যবহারকারী বান্ধব হিসেবে গড়ে তুলবে।

এই ফোনটির স্মার্ট মোড-এ রয়েছে লো লাইট শট, লাইট ট্রেস, এ্যাকশন ফ্রীজ, রিচ টোন ইত্যাদি। কম আলোতে ছবি তোলার সময় ক্যামেরা নিজেই এর সেটিংস বদলে লো লাইটের জন্য যা দরকার সেভাবে ঠিক করে নিবে। লাইট ট্রেস অপশনটি ব্যবহার করা যাবে লাইট ক্যালিওগ্রাফির জন্য। এ্যাকশন ফ্রীজ অপশনটির মাধ্যমে দ্রুত চলমান কোনকিছুর স্পষ্ট ছবি তোলা যাবে।

এই স্মার্ট ক্যামেরাটিতে রয়েছে Wi-Fi কানেকশন এর সুবিধা। অতএব Wi-Fi কানেকশন থাকলে ছবি তোলার সাথে সাথেই স্যোশাল মিডিয়াতে আপলোড করা যাবে। ক্যামেরাটির সাথে ক্লাউড ব্যাকআপও পাওয়া যাবে। স্যামসাং মোবাইলের সাথে কানেক্ট করে মোবাইলের মাধ্যমে ক্যামেরাটি পরিচালনা করার সুবিধাও সংযোজিত হয়েছে এই ক্যামেরাটিতে।

সিদ্ধান্ত

পয়েন্ট এন্ড শুট ক্যামেরা যাদের পছন্দ, এবং যারা কম দামে বেশী জুম-এর নির্ভরযোগ্য একটি ক্যামেরা খুঁজছেন তারা Samsung WB250F ক্যামেরাটি একটু ঘেঁটে দেখতে পারেন। একই দামের অন্য ক্যামেরাগুলির মধ্যে Samsung WB250F-কে একটি পছন্দনীয় ও নির্ভরযোগ্য ক্যামেরা বলেই মনে হয়েছে আমাদের কাছে।

স্পেসিফিকেশন

মডেল: Samsung WB250F
সেন্সর: ১/২.৩৩ ইঞ্চি BSI (Backside illuminated) CMOS
কার্যকর পিক্সেল: ১৪.২ মেগাপিক্সেল
সর্বমোট পিক্সেল: ১৬.৪ মেগাপিক্সেল
ইমেজ ষ্ট্যাবিলাইজেশন মোড: অপটিক্যাল ইমেজ ষ্ট্যাবিলাইজেশন
ডিসপ্লে: টিএফটি এলসিডি, ৩ ইঞ্চি
মেমোরী: ইন্টারনাল মেমোরী ৯.৫ মেগাবাইট, এসডি সর্বোচ্চ ২ গিগাবাইট, এসডিএইচসি সর্বোচ্চ ৩২ গিগাবাইট, এসডিএক্সসি সর্বোচ্চ ৬৪ গিগাবাইট।
ওজন: ১৮৪ গ্রাম
ডাইমেনশন: ১০৬.০৫x৬১.৬৫x২১.৬৫মি.মি
ওয়্যারলেস: ডিরেক্ট Wi-Fi

Leave a comment