Samsung Xpress M2022W Printer এর রিভিউ

হাইলাইটস
রেটিং
কিনবেন কোত্থেকে
সুবিধা: প্রিন্টিং কোয়ালিটি ভালো, মিনিটে ১৪টি থেকে ২১টি পেইজ প্রিন্ট করতে সক্ষম। সাশ্রয়ী দাম, কম্প্যাক্ট ডিজাইন, Wi-Fi কানেক্টিভিটি এবং NFC প্রযুক্তিতে প্রিন্টিং সুবিধা, গুগল ক্লাউড স্টোরেজ। প্রিন্টিং নয়েজ কম।

অসুবিধা: একটি কার্টিজ ব্যবহার করে সর্বোচ্চ মাত্র ১০০০টি পেইজ প্রিন্ট করা সম্ভব যা যথেষ্ট ইকোনোমিক নয়।
3.5/5N/A
m2022wSamsung Xpress M2022W লেজার প্রিন্টারটি ইউএসবি কর্ড কিংবা ওয়াইফাই ব্যবহার করে কম্পিউটার বা স্মার্ট ডিভাইসের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। এতে সংযোজিত হয়েছে ৬০০ মেগাহার্টজ গতির প্রসেসর ও ১২৮ মেগাবাইট মেমোরি – ফলত: প্রিন্টারটি মিনিটে প্রায় ২০টি পেইজ প্রিন্ট করতে পারবে বলে স্যামসাং দাবী করে। প্রিন্টারটির প্রিন্টিং নয়েজকে ৫০ ডেসিবেল-এর মধ্যে রেখেছে স্যামসাং। অর্থাৎ এর প্রিন্টিং নয়েজ কম। অপরদিকে এর কম্পাক্ট ডিজাইন ডেস্কের অনেকটা জায়গাই বাঁচিয়ে দেবে।

ডিজাইন এবং ফিচার

Samsung Xpress M2022W Printer লেজার প্রিন্টারটি যে বিষয়টি প্রথমেই নজড় কাড়ে তা হলো এর সুদৃশ্য আঁটসাঁট ডিজাইন (১৩.০৩ x ৮.৪৬ x ৭.০১ ইঞ্চি)। প্রিন্টারটিকে রাখার জন্য ডেস্কে খুব বেশী জায়গার প্রয়োজন পড়বে না। এটি দেখতে একটি আয়তাকার বাক্সের মত। এর সামনের প্যানেলটি খুলে বের করলেই ভেতরে কাগজ রাখার ট্রেটি বেড়িয়ে আসে। প্রিন্টারটির উপরে ডানপাশে রয়েছে এর পাওয়ার বাটন এবং একটু উপরে WPS বাটন যা সহজেই প্রটেক্টেড Wi-Fi কানেকশন-এ প্রিন্টারটিকে যুক্ত করে। প্রিন্টারের বামপাশে রয়েছে NFC ট্যাগ যার মাধ্যমে যেকোন NFC প্রযুক্তি সমৃদ্ধ মোবাইল ফোনকে প্রিন্টারটির সাথে কানেক্ট করে নেয়া যাবে। এর জন্য শুধু মোবাইল ফোনের NFC চালু করে মোবাইলটিকে NFC ট্যাগের সাথে স্পর্শ করালেই প্রিন্টারটির সাথে মোবাইল ফোনটি কানেক্ট হয়ে যাবে। পেইজ ইনপুট ও আউটপুট ট্রে-এর নিচেই রয়েছে প্রিন্টারের কার্টিজ। কার্টিজটি পরিবর্তন করা সহজ বলেই মনে হয়েছে আমাদের কাছে। প্রিন্টারটির পাওয়ার কানেক্টর এবং USB পোর্ট রয়েছে এর পেছনের প্যানেলে।

পারফরমেন্স

m2022waSamsung Xpress M2022W প্রিন্টারটি ১২০০ x ১২০০ dpi (dot per inch)-এ ২০ টি A৪ সাইজের পেইজ প্রিন্ট করতে পারলেও কন্টেন্টের উপর ভিত্তি করে আমরা ব্যবহারিক ক্ষেত্রে মিনিটে ১৪টি থেকে ২২টি পেইজ পর্যন্ত প্রিন্ট করতে সক্ষম হয়েছি। একটি কার্টিজ দিয়ে ১০০০টি পেইজ প্রিন্ট করা যাবে বলে স্যামসাং দাবী করে। তাদের এই দাবী সত্যি হলেও এই প্রিন্টারটিকে কার্টিজ-এফিশিয়েন্ট বলা যায় না। যাদের প্রতিদিন খুব বেশি প্রিন্টিং-এর প্রয়োজন হয় না, তাদের জন্য সাশ্রয়ী দামের এই প্রিন্টারটি লাভজনক হলেও প্রতিদিন যাদের প্রচুর প্রিন্টিং-এর দরকার হয় তাদের জন্য সঠিক নির্বাচন নয়। মূলত: বাসা-বাড়িতে, স্টুডেন্টদের জন্য কিংবা অফিসের ছোটখাট প্রিন্টিং-এর কাজের জন্যই প্রিন্টারটি তৈরি হয়েছে। তবে কার্টিজ কম লাগুক বা বেশি লাগুক এই প্রিন্টারটির প্রিন্ট কোয়ালিটি আমাদের বেশ ভালো লেগেছে; পেইজে কোন নয়েজ বা কালো দাগ, ডট ইত্যাদি আমরা পাইনি। প্রিন্টেড কাগজে প্রতিটি লেটার খুবই ঝকঝকে ও পরিস্কারভাবে দেখতে পেয়েছি এমনকি টাইমস নিউ রোমান্স-এর ফন্ট সাইজ পাঁচ করেও যে লেটার বা ওয়ার্ড প্রিন্ট হয়েছে সেটাও স্পষ্ট পড়া গিয়েছে।

m2022wbপ্রিন্টারটিকে Wi-Fi এর মাধ্যমে সংযোগ করতে হলে এর WPS বাটনটিতে প্রেস করতে হবে। পরবর্তীতে Wi-Fi রাউটারটির মধ্যে যে WPS বাটনটি রয়েছে তাতে প্র্রেস করলেই প্রিন্টারটি রাউটারের সাথে কানেক্ট হয়ে যাবে। তবে প্রিন্ট করার আগে অবশ্যই ড্রাইভার ইন্সটল করে নিতে হবে। এছাড়াও এই প্রিন্টারের মাধ্যমে গুগল ক্লাউড সার্ভার থেকেও সরাসরি প্রিন্ট করা যায়।

সিদ্ধান্ত

যারা সাশ্রয়ী দামে দ্রুত প্রিন্টিং-এ সক্ষম এবং কম আওয়াজ করে এরকম একটি লেজার প্রিন্টার খুঁজছেন, তারা প্রিন্টার কেনার আগে Samsung Xpress M2022W-প্রিন্টারটির কথা মাথায় রাখতে পারেন। তবে এই প্রিন্টারটি প্রতিনিয়ত প্রিন্টিং-এর কাজ যাদের দরকার তাদের জন্য যথেষ্ট ইকোনোমিক নয় কেননা একটি কার্টিজে সর্বোচ্চ ১০০০ পেইজ পর্যন্ত প্রিন্ট করতে পারবেন এই প্রিন্টার দিয়ে। তবে প্রিন্টারটির প্রিন্ট কোয়ালিটি বেশ ভালো। আপনার যদি প্রতিদিন খুব বেশী পেইজ প্রিন্ট করার প্রয়োজন না হয় তাহলে Samsung Xpress M2022W প্রিন্টারটি একটি বেশ ভালো নির্বাচন হতে পারে বলেই আমরা মনে করি।

স্পেসিফিকেশন

m2022wcমডেল: Samsung Xpress M2022W
প্রসেসর: ৬০০ মেগাহার্টজ
মেমোরী: ১২৮ মেগাবাইট
ডাইমেনশন: ৩৩১ x ২১৫ x ১৭৮ মি.মি (১৩.০৩ x ৮.৪৬ x ৭.০১ ইঞ্চি)
ওজন: ৩.৯৭ কিলোগ্রাম (৮.৭৫ পাউন্ড)
পাওয়ার কঞ্জাম্পশন: ৩১০ ওয়াট (প্রিন্টিং), ১.১ ওয়াট (পাওয়ার সেভ মোড), ৩০ ওয়াট (ষ্ট্যান্ডবাই)
রেজুলেশন: ১২০০ x ১২০০ dpi
ইন্টারফেস: হাই স্পীড USB ২.০
কানেক্টিভিটি: ওয়াইফাই ও এনএফসি প্রযুক্তি
প্রিন্ট ক্যাপাসিটি: ১০০০ পেইজ/কার্টিজ
স্পীড: প্রতি মিনিটে ২০ পেইজ

Leave a comment